নিষেধাজ্ঞা শেষে মেঘনায় ইলিশ শিকারে জেলেরা, ছবিঃ সংগৃহীত
মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাতে। রাত ১২টার পর থেকে মেঘনা নদীতে ইলিশ ধরতে শুরু করেছেন জেলেরা। তবে নিষেধাজ্ঞার পুরো সময়জুড়েই নদীতে ইলিশ শিকার বন্ধ রাখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের কড়াকড়ি নজরদারির মধ্যেও রামগতি ও কমলনগরের বিভিন্ন এলাকায় গোপনে ইলিশ শিকার করেছেন এক শ্রেণির জেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন ঘাট থেকে কৌশলে নৌকা নিয়ে মেঘনা নদীতে নামেন জেলেরা। তাদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নিয়মিত নদীতে জাল ফেলা হয়েছে। এমনকি নিষেধাজ্ঞার শেষ দিন বৃহস্পতিবার ভোরেও বিভিন্ন ঘাট থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে একাধিক নৌকাকে নদীর দিকে যেতে দেখা গেছে।
এদিকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনের অভিযানে বিভিন্ন পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে। অভিযান চলাকালে ছয়টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। পরিদর্শন করা হয়েছে ৬৫টি মাছঘাট, ৬৪টি আড়ত ও ৮২টি মাছবাজার।
এ সময় ১ দশমিক ০১৫ মেট্রিক টন ইলিশ এবং ১৭ লাখ ২৫ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা জালের আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া ২৪টি মামলা, ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ২২ জেলেকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তৃর্য সাহা বলেন, অভিযানের শুরুর দিকে কিছু ঘাটতি থাকলেও শেষ পর্যায়ে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে মতিনহাটসহ বিভিন্ন ঘাটে অভিযান চালিয়ে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর থেকে নদীতে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। তবে ২২ দিনের অভিযান চলাকালে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারের অভিযোগ এবং প্রশাসনের নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে প্রশ্ন রয়ে গেছে।