দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা দিয়ে পাট, জুসসহ বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি আলুও রপ্তানি হচ্ছে। গত কয়েক মাস ধরে এ স্থলবন্দর দিয়ে নেপালে আলু রপ্তানি হয়ে আসছে। আবারো নতুন করে এ বন্দর দিয়ে ২৭৩ মেট্রিক টন আলু নেপালে রপ্তানি হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের কোয়ারেন্টিন ইন্সপেক্টর উজ্জ্বল হোসেন।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর হয়ে ভারতের ফুলবাড়ি হয়ে কয়েকটি ট্রাকে মোট ২৭৩ মেট্রিক টন আলু নেপালে রপ্তানি হয়েছে। এর আগের সপ্তাহে (১০ এপ্রিল) বন্দরটি দিয়ে ১৪৭ মেট্রিক টন আলু রপ্তানি হয়। এ নিয়ে ৪ হাজার ৪৯৪ মেট্রিক টন আলু নেপালে রপ্তানি হলো।
পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভালো মানের আলু সংগ্রহ করে পরীক্ষা নিরিক্ষার করে নেপালে রপ্তানি করা হচ্ছে। থিংকস টু সাপ্লাই, হুসেন এন্টারপ্রাইজ, স্বাধীন এন্টারপ্রাইজ ও ক্যারোস এগ্রো কনসার্ন অব এম আর জে এন গ্রুপসহ বেশ কিছু রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এই আলু নেপালে রপ্তানি করছে। এভাবে আলু নিয়মিত রপ্তানি হতে থাকলে বাংলাদেশ সরকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবেন ও দেশের কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্যের আলুর দাম পাবেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে সিএন্ডএফ এজেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বাংলাদেশের আলু নেপালে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আমরা নিয়মিত আলু নেপালে রপ্তানি করছি। এতে আমরা কৃষক, ব্যবসায়ীরা যেমন লাভবান হচ্ছি সরকারও রাজস্ব পাচ্ছেন।
এ বিষয়ে ক্যারোস এগ্রো কনসার্ন অব এম আর জে এন গ্রুপের মালিক কে এম নাজমুল হাসান বলেন, আমরা বিভিন্ন এলাকা থেকে ভালো মানের আলু সংগ্রহ করে নেপালের রপ্তানি করি। আমরা যদি ভাল মানের আলু নেপালে রপ্তানি করতে পারি তাহলে আমরা সবাই লাভবান হব। তাই আলুর কোয়ালিটি নিশ্চিত করা প্রথম ধাপ। এছাড়া আমরা আগে ২০% ইনসেফটি পেতাম সরকারের পক্ষ থেকে, সেটা এখন ১০% এ নেমে এসেছে। এটা যদি সরকার বাড়াতো তাহলে আমরা অনেক লাভবান হতাম।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের কোয়ারেন্টিন ইন্সপেক্টর উজ্জ্বল হোসেন বলেন, আলুগুলো বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ট্রাকযোগে আসলে আমরা আলুগুলো আগে পরীক্ষা নিরীক্ষা করি, পরে বন্দর হয়ে ভারত হয়ে নেপালে যাচ্ছে আলু। এভাবে যদি প্রতি বছরে আলু রপ্তানি হয় তাহলে কৃষল, সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাই লাভবান হবে।
বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে নিয়মিত বিভিন্ন পণ্য আমদানি ও রপ্তানি হয়। নতুন পণ্য হিসেবে আলু রপ্তানি হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ী ও কৃষকরা যেমন লাভবান হচ্ছে তেমনি সরকারও রাজস্ব পাচ্ছে।