| শিরোনাম: |
এক রুপির মুদ্রা ও বালেন্দ্র, ছবি: সংগৃহীত
এনআরবির মুখপাত্র গুরু প্রসাদ পাউডেল বলেন, নতুন নকশা আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে না এলেও ব্যাংক নিশ্চিত যে আগের মানচিত্রই বহাল থাকবে। তিনি জানান, নতুন মুদ্রাটি আগের তুলনায় আকারে ছোট ও ওজনে হালকা হবে। ভারত-নেপাল সীমান্ত বিরোধের কেন্দ্র উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় জেলার কাছে ভারত-নেপাল-চীনের ট্রাই-জংশন সংলগ্ন প্রায় ৩৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা। লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ ও কালাপানি এই তিনটি অঞ্চল নিয়েই দুই দেশের বিরোধ।
বিরোধের মূল উৎস ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তির ভিন্ন ব্যাখ্যা। নেপালের দাবি, মহাকালী (কালী) নদীর উৎপত্তি লিম্পিয়াধুরা থেকে হওয়ায় ওই তিনটি এলাকা তাদের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে ভারতের দাবি, নদীর উৎপত্তি কালাপানির কাছের একটি ঝরনা থেকে। ফলে তিনটি এলাকাই ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের অংশ।
২০২৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ক্ষমতায় আসেন র্যাপার থেকে রাজনীতিক হওয়া বালেন্দ্র শাহ। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে তিনি জাতীয়তাবাদী অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। তবে সরকারপ্রধান হওয়ার পর অর্থনীতি, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা ও সীমান্ত সংযোগকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারতের সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও দায়িত্ব নেওয়ার পর বালেন্দ্রকে অভিনন্দন জানানোর মাধ্যমে ইতিবাচক বার্তা দেন। একই সময়ে নেপাল চীনের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখলেও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় উচ্চ সুদের ঋণের বদলে অনুদানভিত্তিক সহায়তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি অনুসরণ করছে।
গত ২০ জুলাই বালেন্দ্র সরকার বিতর্কিত মানচিত্র সরিয়ে মুস্তাং জেলার মারং গ্রামের ঐতিহাসিক ‘লো ঘিয়াকার মঠ’-এর ছবি নতুন মুদ্রায় যুক্ত করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেয়। অনেকেই এটিকে ভারত-নেপাল সম্পর্ক উন্নয়নের কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছিলেন, যদিও সরকার একে নিয়মিত মুদ্রা সংস্কারের অংশ বলে ব্যাখ্যা করে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত দেশটির ভেতরেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। বিরোধী দল ও জনমতের চাপের পর শেষ পর্যন্ত সরকার অবস্থান পরিবর্তন করে। ফলে নতুন এক রুপির মুদ্রাতেও আগের মতোই ‘বৃহত্তর নেপাল’-এর মানচিত্র বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
দেশসংবাদ/এমএমএইচ/এফএইচ
|
আপনার মতামত দিন
|