| শিরোনাম: |
|
ব্রিটিশ সেনাবাহিনী, ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি বলছে, অর্থ সাশ্রয়ের জন্য ব্রিটিশ সেনাবাহিনীকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ প্রশিক্ষণ মহড়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হলেও যেসব সেনাসদস্য বিদেশে মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বা ইতোমধ্যে মোতায়েন আছেন, তাদের প্রশিক্ষণ চলবে। এর মধ্যে এস্তোনিয়া, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ বা সাইপ্রাসে পাঠানো ইউনিটগুলোও রয়েছে।
কিন্তু যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত এবং নির্দিষ্ট কোনো অভিযানে মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে না—এমন ইউনিটগুলোকে সম্মিলিত প্রশিক্ষণ মহড়া কমিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর কারণ হিসেবে আর্থিক চাপের কথা বলা হয়েছে।
বিবিসি বলছে, এমন সময় এই সিদ্ধান্তের কথা সামনে এলো, যখন প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের ওপর চাপ বাড়ছে। সরকার আগামী বছরের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে দেশের জাতীয় আয়ের ২ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যয় করার পরিকল্পনা করছে। তবে চলতি দশকের শেষ নাগাদ এই ব্যয় ৩ শতাংশে নেয়ার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই সূত্র বলেন, এর অর্থ হলো এমন কিছু প্রশিক্ষণ আপাতত বন্ধ রাখা, যেগুলোকে তিনি ‘থাকলে ভালো হয়’ ধরনের প্রশিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বড় পরিসরের সরাসরি গুলি ছোড়ার মহড়া এবং উইল্টশায়ারের স্যালিসবারি প্লেইন ও ওয়েলসের সেনিব্রিজের মতো প্রশিক্ষণ এলাকায় প্লাটুন পর্যায়ের হামলার মহড়া।
জানা গেছে, এরই মধ্যে বাতিল হওয়া নির্ধারিত মহড়ার মধ্যে রয়েছে ওয়েলসে রয়্যাল ট্যাংক রেজিমেন্টের সরাসরি গুলি ছোড়ার প্রশিক্ষণ এবং ট্যাংক ও অ্যাপাচি হেলিকপ্টার নিয়ে আরেকটি মহড়া।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই সূত্র বলেন, এসব মহড়া বন্ধের সিদ্ধান্ত সেনাবাহিনীর নিজস্ব সিদ্ধান্ত ছিল না। এই বিরতি চলতি বছরের বেশিরভাগ সময়জুড়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সেনাবাহিনীকে আধুনিক করার লক্ষ্যে নেয়া অন্যান্য নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ চালু থাকবে। এর মধ্যে ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধে যুদ্ধের কৌশল অনুশীলনও রয়েছে।
ব্রিটিশ সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইউক্রেনের যুদ্ধ থেকে পাওয়া শিক্ষা অনুযায়ী প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণের প্রতিটি অনুরোধও আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বিবিসি বলছে, ব্রিটিশ সরকার প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ালেও নিজেদের সব বিনিয়োগ পরিকল্পনার অর্থ জোগাতে এখনো হিমশিম খাচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন বরাদ্দের বড় অংশই নির্দিষ্ট কিছু মূলধনী প্রকল্পে ব্যয়ের জন্য নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে নতুন অস্ত্র কর্মসূচিও রয়েছে। ফলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ খাতের বাজেট এখনো বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে।
সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে এবং যেসব প্রশিক্ষণ সরাসরি প্রস্তুতি, মোতায়েনের সক্ষমতা ও সামরিক কার্যকারিতায় সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে, সেগুলোকে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আগামী ১৫ বছরে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে আমরা ২০০ কোটি পাউন্ডও বিনিয়োগ করছি।’
বিবিসি বলছে, প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় নিয়ে সরকারের টানাপোড়েনই বার্নহামের পূর্বসূরি স্যার কিয়ার স্টারমারের সরকারের পতনের অন্যতম কারণ ছিল। সশস্ত্র বাহিনীর অর্থায়ন নিয়ে কিয়ার স্টারমারের পরিকল্পনার প্রতিবাদে তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি পদত্যাগ করেছিলেন।
প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনায় (ডিআইপি) বলা হয়েছে, ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করা হবে। তবে এরপর কীভাবে আরও ব্যয় বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত পরিকল্পনা জানানো হয়নি। সূত্র: বিবিসি
দেশসংবাদ/এমএমএইচ/এফএইচ
|
আপনার মতামত দিন
|