যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শর্ত পূরণ করলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থবির হয়ে থাকা আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রস্তাবও দিয়েছে তেহরান।
শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বাইরে সাংবাদিকদের কাছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এ প্রস্তাবের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনাটি গ্রহণ করার দিন থেকেই সাত দিনের সময় গণনা শুরু হবে।
ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে— ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং লেবাননসহ একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা।
আরাঘচি বলেন, প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো সম্পন্ন করতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগবে। ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। সপ্তম দিনে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীটি ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে দেশটির প্রধান চাপ প্রয়োগের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের বাণিজ্যিকভাবে পরিবাহিত তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে যাতায়াত করত।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও পড়েছে। জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রেও রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ইরানের নতুন প্রস্তাবের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি ওয়াশিংটন।
ইরানের প্রস্তাবের বিষয়ে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সৌদি আরব নতুন এই সমঝোতার উদ্যোগ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে।
ইরানের নতুন প্রস্তাবটি জুনে হওয়া একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির সঙ্গে অনেকটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে আগের চুক্তিতে ৬০ দিনের একটি অন্তর্বর্তী সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই চুক্তি দ্রুত ভেঙে পড়ে এবং ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে আবারও হামলা শুরু করে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তিতে পৌঁছাতে তিনি তাড়াহুড়ো করছেন না। অন্যদিকে ইরানে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রভাবশালী কট্টরপন্থীরা প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বে মধ্যপন্থীদের প্রস্তাবিত সমঝোতা মেনে নেবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
কূটনৈতিক তৎপরতার আরেকটি ইঙ্গিত হিসেবে শুক্রবার ভোরে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ আলোচনায় কাতার গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
এর আগে বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, মতামত ও বার্তা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্র তা কাজে লাগাবে।