এসিড নিক্ষেপ ও মারধরের অভিযোগে চলচ্চিত্র অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজলসহ দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রাজিদা আক্তার নামে এক নারী বাদী হয়ে এ মামলার আবেদন করেন।
শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টকে (সিআইডি) তদন্ত করে প্রতিবেদনে দাখিলের নির্দেশ দেন। মামলার অপর আসামি হলেন-মনোয়ার হোসেন ডিপজলের পিএস মো. ফয়সাল। বাদীপক্ষের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদিনী গত ২ জুন গাবতলী গরুর হাটে ঈদুল আযহা উপলক্ষে গরু দেখার জন্য যান। সেখানে চলচ্চিত্র অভিনেতা ডিপজলও আসেন। তিনি অভিনেতা ডিপজলের ভক্ত। তাই ডিপজল অফিসের ভেতরে আছে জেনে ওই বাদিনী অফিসের সেখানে প্রবেশ করেন এবং ডিপজলকে সালাম দিয়ে বলেন, ভাই আপনি কেমন আছেন? আমি আপনার খুব ভক্ত, আপনি আছেন শুনে আপনার সঙ্গে দেখা করার জন্য ভেতরে আসলাম। তখন আসামি ডিপজল ধমক দিয়ে বলেন, এই, এই মহিলা ভেতরে কিভাবে ঢুকলো? বের কর এখান থেকে। তখন বাদিনী বলেন যে, ভাই আমি একটু কথা বলেই চলে যাব, আমাকে বের করে দিতে বলছেন কেন? তখন তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেন, এই তোরা এই মহিলাকে পিটিয়ে এখান থেকে বের কর।
অতঃপর আসামি ডিপজলের হুকুমে ও প্ররোচণায় আসামি ফয়সাল এবং তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা আরও দুজন ব্যক্তি বাদিনীর ঘাড় ও হাত ধরে এবং তার পিঠে হাত দিয়ে জোর জবরদোস্তি করে অফিসের ভেতর থেকে টেনে আনে। তারা অফিসের গেইটের কাছে এনে বাদিনীকে ধাক্কা দিলে তিনি জামা কাপড় পেঁচিয়ে মাটিতে পড়ে যান। এরপর বাদিনী শরীরে হাত দিলেন কেন, আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলেন কেন জানতে চাইলে ডিপজল বাদিনীকে বলে, এখান থেকে এখন না গেলে তোর হাত পা ভেঙে পাশের তুরাগ নদীতে ফেলে দেব।
তখন বাদিনী প্রতিবাদ করলে গরুর রশি এনে তার হাত বেঁধে ফেলে এবং অন্যান্য ৮/১০ অজ্ঞাতনামা আসামি বাদিনীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি লাথি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে বাদিনীর ঘাড়ে এসিড ঢেলে দিলে- তিনি যন্ত্রণায় কান্না করতে থাকলে ছেড়ে দেন। অতঃপর বাদিনী সেখান থেকে বাসযোগে বাসায় আসলে আত্মীয়-স্বজনরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে জরুরি বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখান। তিনি গত ৪ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ১১ জুন পর্যন্ত ভর্তি ছিলেন।