জামায়াতে ইসলামীর নেতা শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চট্টগ্রাম নগর শাখা।
রোববার (২৩ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নিন্দা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুলিশ-প্রশাসন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে, জনগণের সেবক হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করবে, কোনো একক দলের গোলাম হবে না।
দলটির চট্টগ্রাম নগর কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে রোববার প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে শনিবার চট্টগ্রামের প্রবীণ জামাত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যে পুলিশ-প্রশাসনকে জামাতের দলীয় নেতাদের নির্দেশে উঠবস করা, কাউকে মামলা দেওয়া এবং গ্রেফতার করার কথা বলেছেন। সেই সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলীয় মার্কার প্রচার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে স্থানীয় জামাত প্রার্থীর কথামতো উন্নয়ন বরাদ্দ প্রদানের কথা বলেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরিফ মঈনুদ্দীন বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছি, শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যে পুলিশ-প্রশাসনকে নির্বাচনকালীন দলীয় লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করার নিন্দনীয় অভিপ্রায় পরিলক্ষিত হয়েছে। আমরা এ ধরনের ঘৃণ্য প্রচেষ্টার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করতে চাই, রাজনৈতিক ফায়দা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কুক্ষিগত করে মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করা আর চলবে না।
এতে আরও বলা হয়, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের জন্য কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন ছিলো নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ। আমরা সেই লক্ষ্যে জনগণের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে সবসময়ই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সর্বদা সচেষ্ট থেকেছি। জাতীয় নাগরিক পার্টি- চট্টগ্রাম মহানগর সবসময়ই মাফিয়াতন্ত্রের বিরুদ্ধে নিজের সাংগঠনিক অবস্থান জানান দিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, পুলিশ-প্রশাসন কোনো একক দলের গোলাম নয়। পুলিশ-প্রশাসন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে, জনগণের সেবক হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করবে, কোনো একক দলের গোলাম হবে না।
এনসিপির চট্টগ্রাম নগর শাখার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রশাসনকে দলীয়করণ করার প্রচেষ্টাকে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা। আমরা রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যক্তিগত এবং দলীয় বাহিনী করার মতো প্রচেষ্টার নিন্দা জানাই এবং উক্ত বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানাই। আমরা আশা করছি, বর্তমান সরকার আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসককে দলীয় প্রভাব মুক্ত রাখবেন, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে সচেষ্ট ভূমিকা পালন করবেন।
প্রসঙ্গত, শনিবার (২২ নভেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে জামায়াতের চট্টগ্রামের নির্বাচনি দায়িত্বশীলদের সমাবেশে দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনে দলের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, যার যার নির্বাচনী এলাকায়– যারা প্রশাসনে আছে, তাদের অবশ্যই আমাদের আন্ডারে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের কথায় উঠবে, আমাদের কথায় বসবে, আমাদের কথায় গ্রেফতার করবে। আমাদের কথায় মামলা করবে। তার এ বক্তব্যের পরেই দেশব্যাপী নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।